টাকা না দিলেই স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলার ভয় দেখান। আশার ১৩ নাম্বার স্বামী খলিলুর রহমান রনি তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন। রনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া এলাকার রমিজ উদ্দিন খানের ছেলে। সুন্দরী আশার সঙ্গে রনির পরিচয় হয় ফেসবুকে। একসময় আশা রনিকে লন্ডন নেয়ার স্বপ্ন দেখায়। আর রনিও লন্ডন যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আশার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বিয়েও হয়। রনি ৮ লাখ টাকা তুলে দেয় আশার হাতে। কিন্তু আশা লন্ডনে আর দেশে পড়ে আছেন রনি। তিনি এখন লন্ডনে যাওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে টাকা ফেরত পেতে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
রনি জানান, চলতি বছরের ২৫শে মার্চ ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের কাজী অফিসে আশার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামায় আশাকে কুমারী উল্লেখ করা হয়। নাম লেখা হয় আফরোজা আক্তার আশা, পিতার নাম তোফাজ্জল হোসেন।
রনির দেয়া তথ্যমতে, ১৯৯১ সালের ২২শে নভেম্বর ৫০ হাজার ১ টাকা দেনমোহরে আফরোজা সুলতানা বেবী পরিচয়ে প্রতারক আশা বিয়ে করেন মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার দেউলভোগ এলাকার আবদুল জব্বার মিয়ার পুত্র মো. খোরশেদুল আলমকে। কাবিননামায় আশা তার বয়স ১৮ বছর বাবার নাম আবদুল করিম খান এবং ১৭/১৮ অক্ষয় দাস লেন সূত্রাপুর- এ ঠিকানা ব্যবহার করেন। শ্রীনগর কাজী অফিসের কাবিন ৫নং বালাম বইয়ের ২ এর পাতা ৩৭৬ পৃষ্ঠা।
১৯৯৪ সালের ১৯শে এপ্রিল ১ লাখ ১ টাকা দেনমোহরে আফরোজা সুলতানা বেবী পরিচয়ে আশা বিয়ে করেন চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চোরঙ্গী এলাকার মরহুম আশোক আলীর পুত্র আবদুল মালেককে। বিয়ের সময় আশা তার বয়স ১৯ বছর, বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন, ৭০ সতীশ সরকার রোড সূত্রাপুর উল্লেখ করেন। সূত্রাপুর রেজিস্ট্রি অফিসে এ বিয়ে হয়। সূত্রাপুর কাজী অফিসের কাবিনের বালাম নং-২ পাতা নং-৯৯ ক্রমিক নং-১১৯।
২০০১ সালের ৩০শে মার্চ আশা ঢাকার সূত্রাপুর থানার ১৩৫নং লাল মোহন সাহা স্ট্রিট রোডের হাজী আমিন উদ্দিনের পুত্র মাহবুবুল আলমকে বিয়ে করে। বিয়ের সময় কাবিনে ২ লাখ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। কাবিনে তার নাম আফরোজা আক্তার আশা, বয়স ২০, বাবার নাম আবদুল করিম, ৩/১ দ্বীননাথ সেন রোড সূত্রাপুর উল্লেখ করা হয়।
একই বছরে এ তরুণী নিজের নাম সুপ্রিয়া ঘোষ পরিচয়ে বিয়ে করে উত্তরা দক্ষিণখান এলাকার স্বপন ঘোষকে।
১৯৯২ সালে আশা প্রথম স্বামী মুন্সীগঞ্জের খোরশেদুুল আলমের বন্ধু আমির হোসেনকে বিয়ে করেন। এছাড়া আশা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদী খানের আশিক, কেরানীগঞ্জ থানার খেজুরবাগ এলাকার আনোয়ার হোসেন, গেণ্ডারিয়া এলাকার তপন খান, ঢাকার তেজগাঁও মনিপুরীপাড়ার এনামুল হোসেনকে বিয়ে করেন বলে জানান আশার ১৩ নাম্বার স্বামী খলিলুর রহমান।
রনি আদালতে দায়ের
করা মামলায় যা বলেন
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আফরোজার সঙ্গে পরিচয় হয় রনির। পরিচয়ের সূত্রধরে তারা একে অপরের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়। একসময় দিনের পর দিন তারা ফোনে কথা বলে। তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আফরোজা রনিকে জানায়, সে লন্ডন থেকে ভারতে প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করে। একপর্যায়ে ভারত থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আফরোজা এবং সরাসরি এসে ওঠে রনির ফতুল্লার দেলপাড়ার বাসায়। রনি আফরোজাকে তার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। যথাসাধ্য আপ্যায়ন করে। ক’দিনের মাথায় আফরোজা রনিকে বিয়ে করে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ১৪ লাখ টাকা দাবি করে। এতে চলতি বছরের ২৫শে মার্চ রাত ৯টার দিকে রনি ৪ লাখ প্রদান করে আফরোজাকে। এরপর কাজী ডেকে তাদের মধ্যে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের কাবিননামা সম্পাদনের পর ৪ঠা এপ্রিল আফরোজা মেরেজ সার্টিফিকেটসহ নিকাহনামা ইংরেজিতে অনুবাদ করে নারায়ণগঞ্জ নোটারি পাবলিকের আদালতে সম্পাদন করে। এবং এম্বাসিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে বিশ্বাস স্থাপন করায়। রনিকে চোরাই পথে লন্ডন নেয়া, নিকাহনাম ও ভিসার জন্য টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আফরোজাকে ১০ই এপ্রিল ২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। ১২ই এপ্রিল আফরোজা ভারত চলে যায়। এবং রনিকে ভারত আসতে বলে। কথামতো ভারত গিয়ে রনি আরও ২ লাখ টাকা দেয় আফরোজাকে। কিন্তু টাকা নিয়ে আফরোজা লন্ডন চলে যায়। লন্ডন গিয়ে আফরোজা রনিকে জানায়, সে বাংলাদেশ এসে রনিকে লন্ডন নিয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করে। ২৮শে অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টায় আফরোজা রনির বাড়িতে এসে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে। এতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আফরোজা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করবে বলে রনিকে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে রনি জানতে পারে তাকে ছাড়া আফরোজা ১৯৯৪ সালের ১৯শে এপ্রিল জনৈক আবদুল মালেক, ৯৯ সালের ২২শে নভেম্বর জনৈক খোরশেদ আলম, ২০০১ সালের ৩০শে মার্চ মাহবুব আলমের সঙ্গে বিয়ের মিথ্যে কাবিননামা তৈরি করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় রনি বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১ই নভেম্বর আফরোজার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মামলা করে। সিআর মামলা নং-২৫৭/১১। আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করতে ফতুল্লা মডেল থানাকে নির্দেশ দিলে ১৯শে ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানা মামলাটি রেকর্ড করে। মামলা নং-৫৬।
প্রতারিত রনি ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া এলাকার রমিজ খানের ছেলে। আর সুপ্রিয়া ঘোষ ওরফে আফরোজা আক্তার (আশা) ঢাকার গেণ্ডারিয়ার দ্বীননাথ সেন রোডের তোফাজ্জলের মেয়ে। বর্তমান ঠিকানা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চরখেজুরবাগ এলাকার সোহাগের বাড়ি বলে মামলায় উল্লেখ করেন রনি।
পুলিশের বক্তব্য
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, আফরোজা একাধিক বিয়ে করে প্রতারণা করেছে কিনা তার প্রমাণ এখনও পাইনি। তবে মামলার বাদী খলিলুর রহমান রনি আমার কাছে আফরোজার বিয়ের ৪টি কাবিননামা দিয়েছেন। সেগুলোর সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া রনির কথামতো আফরোজা বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছে। তবে এ পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে তা হলো, রনি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আফরোজা ২টি মামলা করেছে। মামলার সূত্রধরে পুলিশ রনির বাড়িতে অভিযান চালালে রনি পাল্টা আফরোজার বিরুদ্ধে আদালতে টাকা আত্মসাতের মামলা করে। তিনি আরও জানান, আফরোজাকে টাকা দেয়ার বিষয়ে রনি কোন লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তবে আফরোজা ও রনিকে মুখোমুখি করতে পারলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে জানান এসআই শফিকুল ইসলাম। মানব জমিন
0 comments:
Post a Comment