
তার পরও প্রকৃতির অনেক সাধারণ নিয়মকে জয় করেছে মানুষ। তবে নিজের ঝলমলে যৌবনটাকে অমলিন রাখার কোনো মহৌষধ এখনো পর্যন্ত হাতে পায়নি মানুষ। কিন্তু বসে নেই বিজ্ঞানীরা। সেটাও একদিন মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিতে চান তাঁরা।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বয়সকে থমকে দিতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। তবে সেটা কেবল গবেষণাগারে ইঁদুরের ক্ষেত্রে। তার পরও এতেই অফুরন্ত সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। কেননা, মানুষের জন্য অনেক বড় গবেষণার শুরুটা হয় ইঁদুরকে দিয়েই।
বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, বুড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখে সিনেসেন্ট সেল বা ‘বৃদ্ধ কোষ’। এই কোষ বিতাড়ন করতে পারলে শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়বে না।
কম বয়সে বা তারুণ্যে একটি কোষ বুড়িয়ে গেলেও শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায়ই নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বয়সের একটা পর্যায়ে গিয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। তখন দিনে দিনে বৃদ্ধ কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর এতেই বয়সের ছাপ প্রকট হতে থাকে শরীরে।
গবেষকদের হিসাবমতে, বেশি বয়সের মানুষের শরীরের প্রায় ১০ শতাংশ কোষই বৃদ্ধ কোষ। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের গবেষকেরা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া ইঁদুরের শরীর থেকে বৃদ্ধ কোষ সব ধ্বংস করে ফেলেন। এরপর দেখা যায় ওই সব ইঁদুর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আরও অনেক দেরিতে বুড়ো হচ্ছে। নতুন করে সৃষ্ট বৃদ্ধ কোষও মেরে ফেলা যাচ্ছে আবার ওষুধ প্রয়োগ করে।
এ গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বার্ধক্যের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেন তিনটি বিষয়কে। চোখে ছানি পড়া, পেশি সংকুচিত হয়ে পড়া এবং ত্বক কুচকে যাওয়া। গবেষকেরা জানান, ওষুধ প্রয়োগ করে বৃদ্ধ কোষ সরিয়ে ফেলার পর দেখা গেছে, বার্ধক্যের ওই সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে অনেক দেরিতে।
গবেষক জেমস কির্কল্যান্ড বলেন, ‘কোনো পরীক্ষায় এতটা ঠিক ঠিক ফলাফল আসতে আমি কখনো দেখিনি।’
কির্কল্যান্ডের সহকর্মী আরেক গবেষক জ্যঁ ভন দিউরসেন বিবিসিকে বলেন, ‘এতটা যথার্থ ফলাফলে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। আমার সত্যি মনে হচ্ছে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে এতে করে আয়ুষ্কালের দৈর্ঘ্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ বেশি দিন বা কম দিন বাঁচার কোনো বিষয় এখানে নেই।
কিন্তু এ গবেষণা তো হয়েছে ইঁদুরের ওপর। মানুষের ক্ষেত্রেও কি তা কাজ করবে—এ প্রশ্ন যে কারও মনে আসতেই পারে। যদিও ইঁদুরের মতো মানুষের শরীর থেকে বৃদ্ধ কোষ বিতাড়ন করা সম্ভব নয়।
তবে গবেষক জ্যঁ ভন দিউরসেন বলেছেন আশার কথা। তিনি বলেন, ‘শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থা যদি একটু জোরালো করা যায় এবং এর মাধ্যমে বৃদ্ধ কোষ কমিয়ে রাখা যায়, তাহলে তা কাজ করবে। অথবা এমন কোনো ওষুধ আবিষ্কার করতে হবে, যা বৃদ্ধ কোষ ধ্বংস করে দেবে।’ বিবিসি অনলাইন।