প্রস্রাবও নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে। তা-ই যেন প্রমাণে সক্ষম হলেন গর্ডন ম্যাকসুয়েন। তিন বছরের প্রচেষ্টায় গেমটি তৈরি করেছেন তিনি। ম্যাকসুয়েন বলেন, ‘পানশালার টয়লেটে গেমটি স্থাপনের পর প্রথম রাতে আমি ও আমার শিশুসন্তান সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমরা তখনো বুঝতে পারিনি, এতে মানুষের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে। তবে প্রথম যে জিনিসটি ঘটল, তাতে আমরা অবাক হলাম। পানশালায় কিছু মার্কিন এসেছিলেন। আমি শুনলাম, একজন টয়লেট থেকে ফিরে এসে বলছেন ১২। কিন্তু তাঁর বন্ধুরা বলছেন, কোনো উপায় নেই। এরপর তাঁরা বারবার টয়লেটে গিয়ে গেমটি শেষ করলেন। আমার মনে হলো বিষয়টি বোধহয় ভালোই হয়েছে।’
টয়লেটের ইউরিনালে স্থাপিত তিনটি ইনফ্রারেড সেন্সরে হিট করে গেমটি খেলতে হয়। তবে এটা এখন আর হাসি-ঠাট্টার ব্যাপার নয়। চার মাস পরীক্ষার পর সফল হওয়ায় একে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাজারজাত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ম্যাকসুয়েন বলেন, ‘এই গেমটি এমন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে আপনি মানুষের কাছ থেকে এক মিনিট সময় নিতে পারবেন। কারণ ওই সময় মানুষের মনে অন্য কিছুই কাজ করে না। এ কারণেই ওই সময়ে তাদের কাছে সফলভাবে কোনো বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।’ তিনি বলেন, এখানে কর্তৃপক্ষ কিছু পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়েছেন এবং সেসব পণ্যের বিক্রি ৪০-৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একে প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যায়।’
আর এই গেমকে এমনই ব্যবসায়িক কাজে লাগাতে চান পানশালার মালিক ড্রিউ ওয়েদারহেড। কারণ তাঁর পানশালাটিই যুক্তরাজ্যে প্রথম, যেখানে টয়লেটে গেমটি স্থাপন করা হলো। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, টয়লেটে এই গেমের টানে অনেকেই আমার পানশালায় ছুটে আসবেন। এর আগে যাঁরা আসেননি, তাঁরাও হয়তো আসবেন—এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
গেমটি যাঁরা বাজারজাত করছেন, তাঁরা বলেছেন, সামনের মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের আরও নতুন নতুন পানশালা ও ক্লাবের টয়লেটে গেমটি যুক্ত করা হবে। তাঁরা মনে করছেন, হাতের ছোঁয়াহীন এই গেমটি হবে এ বছর বাজারে আসা সবচেয়ে আকর্ষণীয় পণ্য। রয়টার্স।



0 comments:
Post a Comment