
তিনি জানান, জুঁইকে স্পেশাল কেয়ারে সিআরপিতে রাখা হয়েছে। ডাক্তার আবদুর রাজ্জাকের তত্ত্বাবধানে চলছে তার চিকিৎসা। এছাড়া তাকে অকুপেশন থেরাপি, ফিজিও থেরাপি, কাউন্সিলর ও আর্থটিক্স প্রস্তটিক্স চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে জুঁই যাতে আর ভালভাবে হাতকে কাজে লাগাতে পারে সে জন্য দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে একটি হ্যান্ড গ্লাভস। অকুপেশন ডিপার্টমের্ন্টের (হেন্ড থেরাপি) চিকিৎসক সুমন তরফদার জানান, এটি হুবহু হাত ও আঙ্গুলের মতো দেখা যাবে। কিন্তু আঙ্গুলগুলো সে নাড়াতে পারবে না। যাকে বলা হয় কসমেটিকস সার্জারি। জুঁই’র পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল হাওয়া আক্তার জুঁই। কিন্তু তার স্বামী রফিকুল ইসলাম চান না জুঁই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধ ছিল। পরে ৪ঠা ডিসেম্বর ক্ষুব্ধ রফিকুল তার স্ত্রী যেন লেখা পড়া করতে না পারে সে জন্য ডান হাতের চার আঙ্গুল কেটে ফেলে। আঙ্গুল না থাকায় লেখাপড়া হবে না- এমনকি মনোবলও হারায়নি জুঁই। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয় সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র-সিআরপিতে। সেখানে চলে তার চিকিৎসা। ৫টি বিভাগ তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে জুঁই কৃত্রিম আঙ্গুলের মাধ্যমে লেখা শিখছে। এমনকি নিজে নিজে কাপড় পরাও শিখছে। জুঁই আশাবাদী সে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেবে। কিন্তু পরীক্ষার হলে সহযোগিতার জন্য তার প্রয়োজন একজন রাইটারের। গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জুঁই বলেন, আমাকে হারাতে হয়েছে ডান হাতের ৪টি আঙ্গুল। আমি তারপরও পড়ালেখা করতে চাই। তিনি তার স্বামীর শাস্তি দাবি করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে আসেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন মিডিয়াতে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ৮ই জানুয়ারি সাভারের পক্ষাঘাত গ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) কর্তৃপক্ষ জুঁইকে তাদের হেফাজতে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। সিআরপি’র চিকিৎসকরা জানান, তারা আশাবাদী আরও ১০ দিন চিকিৎসা দেয়ার পর জুঁই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। এবং তাকে রিলিজ করে দেয়া হবে। তবে মাঝে-মধ্যে এসে তাকে থেরাপি নিতে হবে। mzamin



0 comments:
Post a Comment